বাংলাদেশের রাজনীতির ময়দানে একটি প্রচলিত কথা আছে—”রাজনীতির খেলায় সরাসরি উপস্থিত না থেকেও ক্ষমতার স্বাদ উপভোগ করা যায়।” ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রভাবশালী নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বর্তমান অবস্থান সেই পুরোনো প্রবাদকেই যেন নতুন করে সামনে নিয়ে এলো।
আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই প্রেসিডিয়াম সদস্য বর্তমানে আত্মগোপনে থাকলেও, এবারের সংসদ নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে—ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তারই তিন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নিকটাত্মীয়। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও পারিবারিক সম্পর্কের এই ‘অদৃশ্য সুতো’ বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনন্য বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে।
ক্ষমতার শীর্ষে তিন স্বজন:
১. ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু: বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই প্রভাবশালী নেতা সম্পর্কে শেখ সেলিমের বেয়াই (সেলিমের ছোট ছেলে শেখ নাঈমের শ্বশুর)। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি এখন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শক্ত অবস্থানে।
২. ববি হাজ্জাজ: এনডিএম প্রধান ববি হাজ্জাজ শেখ সেলিমের বড় ছেলে শেখ ফাহিমের আপন শ্যালক। এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি এখন সংসদীয় রাজনীতির অন্যতম অংশীদার।
৩. ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ: বিজেপি (বিজেপি) প্রধান পার্থ সম্পর্কে শেখ সেলিমের আপন ভাগ্নে। শুধু তাই নয়, তিনি বঙ্গবন্ধুর ভাতিজা শেখ হেলালের মেয়ের জামাইও। তুখোড় বাগ্মী হিসেবে তিনি এখন সংসদের ভেতরে ও বাইরে বড় আলোচনার নাম।
৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর শেখ সেলিম জনসম্মুখ থেকে হারিয়ে গেলেও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যানার ও আদর্শের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আদর্শের লড়াই এক জায়গায়, আর পারিবারিক সম্পর্কের প্রভাব অন্য জায়গায়। বাংলাদেশের রাজনীতির এই জটিল রসায়নে শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক, প্রভাব আর কৌশল—সবই যেন এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা থাকে। মাঠের লড়াইয়ে নেতা হারলেও, সম্পর্কের জাদুতে প্রভাব রয়েই যায়।

সম্পাদকীয় 









