পাবনার ঈশ্বরদীতে চাঁদার টাকা না পেয়ে এক কৃষকের লিজ নেওয়া জমি থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার গাজর লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদলের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে তাদের আদালতের মাধ্যমে পাবনা কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঈশ্বরদী ইপিজেড গেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভুক্তভোগী কৃষক মো. শরিফুল ইসলাম (৪১) দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল ঠাকুরপাড়া গ্রামের মো. কালামের ছেলে মো. আশিস (৩০) এবং একই এলাকার মো. পলানের ছেলে মো. পলাশ (২৯)। পাকশী ইউনিয়ন যুবদল জানিয়েছে, তারা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত এমপি পদপ্রার্থী (ধানের শীষ) হাবিবুর রহমান হাবিব-এর অনুসারী ও যুবদলের কর্মী।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরিফুল ইসলাম বছরভিত্তিক চুক্তিতে জমি লিজ নিয়ে পাকশী ইউনিয়নের বেলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুল ইসলাম হব্বুল চেয়ারম্যানের দেড় বিঘা জমি এবং পাকশী পেপার মিলস কলোনির চরকী গেটের পশ্চিম পাশে স্বপনের দুই বিঘা জমিতে গাজর চাষ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা তার কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভয়ে শরিফুল প্রথমে ২৫ হাজার টাকা দেন। পরে বাকি টাকা না দেওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়।
এরপর গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বেলতলা এলাকার দেড় বিঘা জমি থেকে প্রায় ৩০০ মণ গাজর লুট করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ টাকা। আবার ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পাকশী পেপার মিলস কলোনির দুই বিঘা জমি থেকে প্রায় ৩৫০ মণ গাজর লুট করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা।
ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম বলেন, মানুষের কাছ থেকে ধার করে গাজর চাষ করেছিলেন তিনি। চাঁদা না দেওয়ায় তার পুরো ফসল লুট করে নেওয়া হয়েছে। তিনি ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান, মামলার আসামিরা পলাতক ছিলেন। তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।ডে

ডেক্স রিপোর্ট 









