বিশেষ প্রতিবেদন | খবরা খবর ডট কম -মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আবারও তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–কে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কূটনৈতিক ও সামরিক বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, তারা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরাসরি দায়ী করছে আঞ্চলিক অস্থিরতার জন্য।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের কারণ। ওয়াশিংটনের দাবি— তেহরান পরমাণু সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে চায়। অন্যদিকে ইসরাইল বরাবরই বলছে, ইরানের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।
বিশেষ করে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ানোর পর সম্পর্কের অবনতি চরমে পৌঁছে। পরবর্তীতে গাজা যুদ্ধ এবং লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন ইস্যুতে তেলআবিব আরও কঠোর অবস্থান নেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খামেনি ইরানের পররাষ্ট্র ও সামরিক নীতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা। ফলে তাকে কেন্দ্র করে যে কোনো কৌশলগত পদক্ষেপ পুরো রাষ্ট্র কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরাসরি কোনো শীর্ষ নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতির দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত বিতর্কিত।
এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানালেও বাস্তবতা হলো— মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির লড়াই এখন নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, এই উত্তেজনা যদি সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়— বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।

রিয়াজুল ইসলাম 









