যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে সালেহা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও তাকে গ্যাস্ট্রিক ও পেটের ব্যথার চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই দ্রুত ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ জানুয়ারি ভোর ৬টার দিকে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আখিরুজ্জামান রোগীকে ছাড়পত্র দেন। ভর্তি থেকে ছাড়পত্র দেওয়া পর্যন্ত তিনি রোগীকে সরাসরি দেখেননি। রোগীর স্বজনরা একাধিকবার চিকিৎসকের উপস্থিতি ও যথাযথ চিকিৎসার দাবি জানালেও তিনি সাড়া দেননি।
পরে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুরাইয়া পারভীন রোগীর অবস্থা শুনে ইসিজি, আলট্রাসনোসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করান। তবে রিপোর্টে হৃদরোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. ফারিয়া ইয়াসমিন ছাড়পত্র বহাল রাখেন।
স্বজনদের আশ্বস্ত করে বলা হয়, পরদিন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেখানো যাবে এবং ততটা গুরুতর কিছু নয়। কিন্তু পরদিন (১৪ জানুয়ারি) আবার হাসপাতালে নেওয়া হলে জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. আবদুল কাদের বিষয়টি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং রোগীকে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।
সেখানে অবস্থার অবনতি হলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ঝুঁকি বিবেচনায় প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ জানুয়ারি সালেহা বেগম মারা যান।
এ ঘটনায় মৃতার ছেলে ইন্দ্রোজিৎ (পরিবর্তিত নাম) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে, রোগীকে সরাসরি না দেখে এবং প্রয়োজনীয় ইসিজি পরীক্ষা ছাড়াই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল, যা চিকিৎসা নীতিমালার পরিপন্থী। তবে তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে কেবল সতর্ক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: দৈনিক যুগান্তর

স্টাপ রিপোর্টার 








