Dhaka , বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
নীরব ঘাতক ফ্যাটি লিভার: সচেতনতা ও প্রতিরোধই হতে পারে বাঁচার উপায় অ্যান্টিভেনম সংকটে ঝিনাইদহে সাপে কাটা রোগীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আইন হাতে তুলে নিতে পিছ পা হবো নাঃ মুন্নি সাহা যশোরে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ ও গণমিছিল: ‘গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি গোবিন্দগঞ্জে স্কুলে যাওয়ার পথে ছাত্রীকে তুলে নিয়ে দিনভর ধর্ষণ, রাস্তায় ফেলে পালাল দুর্বৃত্তরা যবিপ্রবি হলের খাবারে বিষক্রিয়া: কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার অভিযোগ ​ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা ও হামলার প্রতিবাদে যশোরে ছাত্রশিবিরের কর্মী সমাবেশ স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘শূন্য ব্যয়ে সংস্কার’ প্রস্তাব এমপি মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস “ইউরোপে নতুন গন্তব্য: সরকারি উদ্যোগে ৭ দেশে মিলছে কাজের সুযোগ”
তারেক রহমানের আমীরে জামায়াত ও এনসিপিদের সাথে স্বাক্ষাত

সংঘাত নয়, ঐক্যের রাজনীতিই হোক আগামীর পাথেয়!

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের নিরঙ্কুশ রায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে। তবে নির্বাচনের ফলাফল ছাপিয়ে আজ দেশবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে এক অনন্য ও আশাব্যঞ্জক রাজনৈতিক দৃশ্যপট। বিজয়ী দলের কাণ্ডারি ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়কের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিকরা এই সাক্ষাৎকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতির ‘সংস্কৃতি বদলের’ এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখছেন।

 

বাংলাদেশের রাজনীতির চিরচেনা রূপ হলো—নির্বাচনের পর বিজয়ী ও বিজিত পক্ষের মধ্যে চরম বৈরিতা এবং প্রতিহিংসার আস্ফালন। কিন্তু তারেক রহমানের এই অগ্রণী ভূমিকা প্রমাণ করে যে, তিনি একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক’ রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা নতুন রাজনৈতিক শক্তি এবং দীর্ঘদিনের মিত্রদের সাথে এই সমন্বয় আগামী দিনের রাষ্ট্র সংস্কারকে আরও গতিশীল করবে।


এই সাক্ষাতের সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব:

১. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: প্রধান দলগুলোর মধ্যে এই সংলাপ ও হৃদ্যতা তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সংঘাত কমিয়ে আনবে। এটি একটি শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত  করবে।

২. জাতীয় ঐকমত্য: জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের যে দাবি উঠেছে, তা কোনো একক দলের পক্ষে বাস্তবায়ন করা কঠিন। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি-র মতো দলগুলোর সাথে এই আলোচনা সংস্কার প্রক্রিয়াকে সর্বজনগ্রাহ্য করে তুলবে।

৩. অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার: বৈদেশিক বিনিয়োগ ও উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো রাজনৈতিক স্থিরতা। যখন বিশ্ব দেখবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনার মাধ্যমে দেশ গড়ার পথে হাঁটছে, তখন দেশের অর্থনীতির ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বেড়ে যাবে।

 

তারেক রহমানের এই “সংঘাত নয়, সমঝোতা”র নীতি নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। জনগণ আর বিভাজনের রাজনীতি দেখতে চায় না। তারা চায় একটি কর্মসংস্থানমুখী, দুর্নীতিমুক্ত ও সাম্যবাদী বাংলাদেশ। বিজয়ী দলের পক্ষ থেকে এই উদারতা এবং বিরোধী দলগুলোর ইতিবাচক সাড়াদানই হতে পারে একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রথম সোপান।

আমরা আশা করি, এই সৌজন্যের রাজনীতি কেবল বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সংসদীয় কার্যক্রমেও এর প্রতিফলন ঘটবে। একটি শক্তিশালী সরকারের পাশাপাশি একটি সক্রিয় ও গঠনমূলক বিরোধী দলই পারে গণতন্ত্রকে টেকসই করতে। ১৩তম সংসদের যাত্রা হোক প্রতিহিংসামুক্ত, ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Tobibur Rahman

নীরব ঘাতক ফ্যাটি লিভার: সচেতনতা ও প্রতিরোধই হতে পারে বাঁচার উপায়

তারেক রহমানের আমীরে জামায়াত ও এনসিপিদের সাথে স্বাক্ষাত

সংঘাত নয়, ঐক্যের রাজনীতিই হোক আগামীর পাথেয়!

Update Time : ১১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের নিরঙ্কুশ রায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে। তবে নির্বাচনের ফলাফল ছাপিয়ে আজ দেশবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে এক অনন্য ও আশাব্যঞ্জক রাজনৈতিক দৃশ্যপট। বিজয়ী দলের কাণ্ডারি ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়কের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ নাগরিকরা এই সাক্ষাৎকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতির ‘সংস্কৃতি বদলের’ এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখছেন।

 

বাংলাদেশের রাজনীতির চিরচেনা রূপ হলো—নির্বাচনের পর বিজয়ী ও বিজিত পক্ষের মধ্যে চরম বৈরিতা এবং প্রতিহিংসার আস্ফালন। কিন্তু তারেক রহমানের এই অগ্রণী ভূমিকা প্রমাণ করে যে, তিনি একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক’ রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা নতুন রাজনৈতিক শক্তি এবং দীর্ঘদিনের মিত্রদের সাথে এই সমন্বয় আগামী দিনের রাষ্ট্র সংস্কারকে আরও গতিশীল করবে।


এই সাক্ষাতের সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব:

১. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: প্রধান দলগুলোর মধ্যে এই সংলাপ ও হৃদ্যতা তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও সংঘাত কমিয়ে আনবে। এটি একটি শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত  করবে।

২. জাতীয় ঐকমত্য: জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের যে দাবি উঠেছে, তা কোনো একক দলের পক্ষে বাস্তবায়ন করা কঠিন। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি-র মতো দলগুলোর সাথে এই আলোচনা সংস্কার প্রক্রিয়াকে সর্বজনগ্রাহ্য করে তুলবে।

৩. অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার: বৈদেশিক বিনিয়োগ ও উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো রাজনৈতিক স্থিরতা। যখন বিশ্ব দেখবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনার মাধ্যমে দেশ গড়ার পথে হাঁটছে, তখন দেশের অর্থনীতির ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বহুগুণ বেড়ে যাবে।

 

তারেক রহমানের এই “সংঘাত নয়, সমঝোতা”র নীতি নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। জনগণ আর বিভাজনের রাজনীতি দেখতে চায় না। তারা চায় একটি কর্মসংস্থানমুখী, দুর্নীতিমুক্ত ও সাম্যবাদী বাংলাদেশ। বিজয়ী দলের পক্ষ থেকে এই উদারতা এবং বিরোধী দলগুলোর ইতিবাচক সাড়াদানই হতে পারে একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রথম সোপান।

আমরা আশা করি, এই সৌজন্যের রাজনীতি কেবল বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সংসদীয় কার্যক্রমেও এর প্রতিফলন ঘটবে। একটি শক্তিশালী সরকারের পাশাপাশি একটি সক্রিয় ও গঠনমূলক বিরোধী দলই পারে গণতন্ত্রকে টেকসই করতে। ১৩তম সংসদের যাত্রা হোক প্রতিহিংসামুক্ত, ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে।