Dhaka , বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
News Title :
চৌগাছা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নারীর মৃত্যু, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ রায়পুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোরী, পুলিশের তৎপরতায় স্বস্তি পরিবারে যশোরে নাজমা হোটেলে ভোক্তা অধিকার অভিযান: ১ লাখ টাকা জরিমানা, জব্দ পঁচা ভাত ও অস্বাস্থ্যকর ডিম চৌগাছায় ৩ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ জুস-বিস্কুট-চকলেটের প্রলোভনে নাবালক কে দিয়ে বাসা থেকে ১২ ভরি স্বর্ণ হাতিয়ে নেয়া প্রতা/রক গ্রেফতার পাম্পে হাহাকার, মন্ত্রীদের বয়ানে গোলকধাঁধা সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত প্রবাসী মামুনের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে আহত ইউনিয়ন জামায়াত আমীরের মৃত্যু ছাত্রদলের নতুন কমিটির সভাপতি পদে এগিয়ে কাজী জিয়াউদ্দিন বাসিত
আমার কিছু উপলদ্ধি:

নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতা: হতাশা নাকি নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত?

সাম্প্রতিক নির্বাচন ও তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে একটি কঠিন সত্য তুলে ধরেছে। যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বা সেকুলার মতবাদের ওপর ভরসা করে মানুষ ন্যায়বিচারের স্বপ্ন দেখেছিল, তা বারবারই ভঙ্গুর প্রমাণিত হচ্ছে। মুখ পাল্টাচ্ছে, কিন্তু নিপীড়নের ধরণ পাল্টাচ্ছে না; প্রতিশ্রুতি নতুন আসছে, কিন্তু প্রতারণা সেই পুরনোই থেকে যাচ্ছে। পরিবর্তনের আশায় বুক বেঁধে যারা কেন্দ্রে গিয়েছিল, দিনশেষে তাদের ফিরতে হয়েছে একরাশ হতাশা নিয়ে। নির্বাচনের অব্যবহিত পরেই আমরা দেখেছি সংঘাত আর অস্থিরতার অনাকাঙ্ক্ষিত চিত্র।

কিন্তু এই পরিস্থিতি কি কেবলই পরাজয়ের গল্প? নাকি এই অস্থিরতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এমন কোনো বার্তা, যা সতর্কতার সাথে পাঠ করতে পারলে আমরা এক নতুন আশার আলো খুঁজে পাব?

স্রষ্টা যখন কোনো ব্যবস্থাকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে চান, তখন তিনি তার উপযুক্ত ক্ষেত্রও তৈরি করেন। বর্তমান প্রচলিত সমাজব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং মানুষের মোহভঙ্গ—এ সবই হয়তো সেই বৃহত্তর পরিবর্তনেরই প্রস্তুতি। যখন একটি প্রজন্ম গভীরভাবে উপলব্ধি করে যে, মানবরচিত বিধানে প্রকৃত শান্তি বা মুক্তি নেই, তখনই তারা শাশ্বত সত্যের দিকে মুখ ফিরাতে শুরু করে।

৫ই আগস্ট-পরবর্তী সময়ে এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ নির্মম বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এই সত্যটিই নতুন করে অনুধাবন করছে—মানুষের তৈরি আইন কখনোই পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা বা ইনসাফ দিতে পারে না। আজকের এই অস্থিরতা আসলে একটি জাগরণের সূচনা মাত্র।

পবিত্র কুরআনে (সূরা আল-আ’রাফ: ১২৮) একটি শাশ্বত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার সারমর্ম হলো—”নিশ্চয়ই এই পৃথিবীর মালিক আল্লাহ। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা এর কর্তৃত্ব দান করেন। তবে শেষ শুভ পরিণাম কেবল তাদের জন্যই, যারা তাকওয়া বা খোদাভীতি অবলম্বন করে।”

এই কথাটি আমাদের একটি চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দেয়। ক্ষমতার পালাবদল হতে পারে, কিন্তু শেষ বিজয় সর্বদা সত্যপন্থীদের। জাগতিক ব্যবস্থা বা মতবাদগুলো মানুষকে হতাশ করতে পারে, সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে, কিন্তু স্রষ্টার প্রতিশ্রুতি কখনোই বিফল হয় না। যখন তিনি বিজয়ের ফয়সালা করেন, তখন তা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের বিজয়ের আগে কঠিন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রস্তুত করেন। বদরের যুদ্ধের আগে মুসলিমদের সংখ্যা বা শক্তি ছিল নগণ্য, কিন্তু সেই ময়দানই তাদের বিজয়ী মানসিকতা গড়ে দিয়েছিল। খন্দকের কঠিন অবরোধ বা হুদায়বিয়ার সন্ধি—যা আপাতদৃষ্টিতে পরাজয় মনে হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেটাই ছিল চূড়ান্ত বিজয়ের সোপান।

আজকের এই রাজনৈতিক হতাশা বা সিস্টেমের অসারতা হয়তো আমাদের সেই প্রস্তুতিরই অংশ। এর মাধ্যমে আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হচ্ছে যে, প্রচলিত ব্যবস্থায় মুক্তি নেই। যেন আমরা মিথ্যে আশা ছেড়ে প্রকৃত সত্যের পথে ফিরে আসি। সোনা যেমন আগুনে পুড়ে খাঁটি হয়, বর্তমান সংকটও হয়তো আমাদের ঈমান ও সংকল্পকে সেভাবেই ঝালিয়ে নিচ্ছে।

বর্তমান সময়ের সাথে ইতিহাসের সেই সোনালী অধ্যায়ের অদ্ভুত মিল রয়েছে। তখনও ইসলামের পক্ষে কোনো বৈশ্বিক পরাশক্তি ছিল না, আজও নেই। সত্যের পথ তখনও কণ্টকাকীর্ণ ছিল, আজও তাই। কিন্তু মনে রাখতে হবে, রাত যত গভীর হয়, ভোর তত কাছে আসে। ফেরাউন ভেবেছিল সে জয়ী, কিন্তু লোহিত সাগরই হয়েছিল তার সমাধি। আবু জাহেল ভেবেছিল ইসলাম নিশ্চিহ্ন হবে, কিন্তু বদর প্রান্তর ভিন্ন ইতিহাস লিখেছিল।

প্রতিটি হতাশা একটি শিক্ষা, প্রতিটি ব্যর্থতা একটি পরীক্ষা। এই জাতি যখন প্রকৃত অর্থে একত্ববাদের চেতনায় নিজেদের গড়ে তুলবে, তখনই আসবে কাঙ্ক্ষিত সাহায্য। ‘শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্য’—এটি কেবল মুখের বুলি নয়, এটি একটি ধ্রুব সত্য। প্রয়োজন কেবল ধৈর্য, প্রস্তুতি আর অবিচল বিশ্বাসের।

রিয়াজুল ইসলাম

সম্পাদক, খবরা-খবর ডট কম

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

চৌগাছা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নারীর মৃত্যু, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

আমার কিছু উপলদ্ধি:

নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতা: হতাশা নাকি নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত?

Update Time : ০৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাম্প্রতিক নির্বাচন ও তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে একটি কঠিন সত্য তুলে ধরেছে। যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বা সেকুলার মতবাদের ওপর ভরসা করে মানুষ ন্যায়বিচারের স্বপ্ন দেখেছিল, তা বারবারই ভঙ্গুর প্রমাণিত হচ্ছে। মুখ পাল্টাচ্ছে, কিন্তু নিপীড়নের ধরণ পাল্টাচ্ছে না; প্রতিশ্রুতি নতুন আসছে, কিন্তু প্রতারণা সেই পুরনোই থেকে যাচ্ছে। পরিবর্তনের আশায় বুক বেঁধে যারা কেন্দ্রে গিয়েছিল, দিনশেষে তাদের ফিরতে হয়েছে একরাশ হতাশা নিয়ে। নির্বাচনের অব্যবহিত পরেই আমরা দেখেছি সংঘাত আর অস্থিরতার অনাকাঙ্ক্ষিত চিত্র।

কিন্তু এই পরিস্থিতি কি কেবলই পরাজয়ের গল্প? নাকি এই অস্থিরতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এমন কোনো বার্তা, যা সতর্কতার সাথে পাঠ করতে পারলে আমরা এক নতুন আশার আলো খুঁজে পাব?

স্রষ্টা যখন কোনো ব্যবস্থাকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে চান, তখন তিনি তার উপযুক্ত ক্ষেত্রও তৈরি করেন। বর্তমান প্রচলিত সমাজব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং মানুষের মোহভঙ্গ—এ সবই হয়তো সেই বৃহত্তর পরিবর্তনেরই প্রস্তুতি। যখন একটি প্রজন্ম গভীরভাবে উপলব্ধি করে যে, মানবরচিত বিধানে প্রকৃত শান্তি বা মুক্তি নেই, তখনই তারা শাশ্বত সত্যের দিকে মুখ ফিরাতে শুরু করে।

৫ই আগস্ট-পরবর্তী সময়ে এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ নির্মম বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এই সত্যটিই নতুন করে অনুধাবন করছে—মানুষের তৈরি আইন কখনোই পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা বা ইনসাফ দিতে পারে না। আজকের এই অস্থিরতা আসলে একটি জাগরণের সূচনা মাত্র।

পবিত্র কুরআনে (সূরা আল-আ’রাফ: ১২৮) একটি শাশ্বত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার সারমর্ম হলো—”নিশ্চয়ই এই পৃথিবীর মালিক আল্লাহ। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা এর কর্তৃত্ব দান করেন। তবে শেষ শুভ পরিণাম কেবল তাদের জন্যই, যারা তাকওয়া বা খোদাভীতি অবলম্বন করে।”

এই কথাটি আমাদের একটি চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দেয়। ক্ষমতার পালাবদল হতে পারে, কিন্তু শেষ বিজয় সর্বদা সত্যপন্থীদের। জাগতিক ব্যবস্থা বা মতবাদগুলো মানুষকে হতাশ করতে পারে, সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে, কিন্তু স্রষ্টার প্রতিশ্রুতি কখনোই বিফল হয় না। যখন তিনি বিজয়ের ফয়সালা করেন, তখন তা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের বিজয়ের আগে কঠিন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রস্তুত করেন। বদরের যুদ্ধের আগে মুসলিমদের সংখ্যা বা শক্তি ছিল নগণ্য, কিন্তু সেই ময়দানই তাদের বিজয়ী মানসিকতা গড়ে দিয়েছিল। খন্দকের কঠিন অবরোধ বা হুদায়বিয়ার সন্ধি—যা আপাতদৃষ্টিতে পরাজয় মনে হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেটাই ছিল চূড়ান্ত বিজয়ের সোপান।

আজকের এই রাজনৈতিক হতাশা বা সিস্টেমের অসারতা হয়তো আমাদের সেই প্রস্তুতিরই অংশ। এর মাধ্যমে আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হচ্ছে যে, প্রচলিত ব্যবস্থায় মুক্তি নেই। যেন আমরা মিথ্যে আশা ছেড়ে প্রকৃত সত্যের পথে ফিরে আসি। সোনা যেমন আগুনে পুড়ে খাঁটি হয়, বর্তমান সংকটও হয়তো আমাদের ঈমান ও সংকল্পকে সেভাবেই ঝালিয়ে নিচ্ছে।

বর্তমান সময়ের সাথে ইতিহাসের সেই সোনালী অধ্যায়ের অদ্ভুত মিল রয়েছে। তখনও ইসলামের পক্ষে কোনো বৈশ্বিক পরাশক্তি ছিল না, আজও নেই। সত্যের পথ তখনও কণ্টকাকীর্ণ ছিল, আজও তাই। কিন্তু মনে রাখতে হবে, রাত যত গভীর হয়, ভোর তত কাছে আসে। ফেরাউন ভেবেছিল সে জয়ী, কিন্তু লোহিত সাগরই হয়েছিল তার সমাধি। আবু জাহেল ভেবেছিল ইসলাম নিশ্চিহ্ন হবে, কিন্তু বদর প্রান্তর ভিন্ন ইতিহাস লিখেছিল।

প্রতিটি হতাশা একটি শিক্ষা, প্রতিটি ব্যর্থতা একটি পরীক্ষা। এই জাতি যখন প্রকৃত অর্থে একত্ববাদের চেতনায় নিজেদের গড়ে তুলবে, তখনই আসবে কাঙ্ক্ষিত সাহায্য। ‘শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্য’—এটি কেবল মুখের বুলি নয়, এটি একটি ধ্রুব সত্য। প্রয়োজন কেবল ধৈর্য, প্রস্তুতি আর অবিচল বিশ্বাসের।

রিয়াজুল ইসলাম

সম্পাদক, খবরা-খবর ডট কম