দেশের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণ ফেরাতে এবং ফেডারেশনগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হার্ডলাইনে গিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সোমবার দেশের ৫১টি ক্রীড়া ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সাথে এক ম্যারাথন বৈঠকে তিনি ৫টি বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান, যা দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে।
১. জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য মাসিক বেতন কাঠামো:
সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ক্রিকেট ও ফুটবলের বাইরে অন্যান্য খেলার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দেরও এখন থেকে সরকারিভাবে মাসিক বেতনের আওতায় আনা হবে। প্রতিটি ফেডারেশনকে তাদের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের তালিকা ও গ্রেডিং জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ঈদুল ফিতরের পরপরই এই বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২. ১ সপ্তাহের মধ্যে কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন তলব:
ফেডারেশনগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত এক বছরের যাবতীয় কর্মকাণ্ড, সফলতা-ব্যর্থতা এবং ব্যয়ের বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী ৭ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। যারা সঠিক সময়ে প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হবে বা যাদের কর্মকাণ্ডে অসঙ্গতি পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩. তৃণমূল থেকে স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া:
অ্যাডহক কমিটির সংস্কৃতি বন্ধ করে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে ফেডারেশনের নেতৃত্ব বাছাই করা হবে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতৃত্বই জাতীয় ক্রীড়া ব্যবস্থায় পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করবে।
৪. সমজাতীয় ফেডারেশন একীভূতকরণ:
বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে একই ধরণের খেলার জন্য একাধিক ফেডারেশন বা অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে এবং ব্যয় কমাতে সমজাতীয় খেলাগুলোকে একটি ছাতার (সংস্থার) নিচে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সরকার। অকার্যকর ফেডারেশনগুলোর কার্যক্রমও খতিয়ে দেখা হবে।
৫. ক্রীড়া সামগ্রীর ওপর কর মওকুফের উদ্যোগ:
খেলোয়াড়দের মানসম্মত সরঞ্জামের সংকট কাটাতে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ক্রীড়া সামগ্রীর ওপর কর (Tax) মওকুফ বা হ্রাসের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) সাথে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এছাড়া করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সিএসআর (CSR) ফান্ডের অর্থ সরাসরি খেলাধুলায় বিনিয়োগের পথ সহজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন আমিনুল হক।
প্রতিমন্ত্রীর বার্তা: > “আমরা চাই খেলাধুলা হোক পেশা। খেলোয়াড়রা যখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকবেন, তখনই মাঠ থেকে বড় অর্জন সম্ভব হবে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।”

তবিবুর রহমান 









