যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের শার্শায় পল্লী চিকিৎসক আলআমিন হত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টারও অভিযোগ উঠেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-শার্শা উপজেলার দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আলাউদ্দিন আলা, একই গ্রামের জামির হোসেনের ছেলে লালন হোসেন এবং আব্দুল কাদেরের ছেলে সেলিম মিয়া। তিনজনই যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আলাউদ্দিন ও সেলিম দীর্ঘদিন ধরে নাভারন এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও প্রভাবশালী রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণে এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।
জানা যায়,প্রায় তিন মাস আগে এই একই চক্র ডাক্তার আলআমিনকে মারধর করে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে। এরপর থেকেই আলআমিন ছিলেন আতঙ্কে। শেষ পর্যন্ত সেই আতঙ্কই রূপ নেয় নির্মম পরিণতিতে। গত ১৯ তারিখ রাতে শার্শার গাতিপাড়া এলাকায় তারাবির নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আলআমিনের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের ছাড়িয়ে নিতে শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির থানায় গিয়ে তদবির করেন। তারা সবাই আবুল হাসান জহিরের অনুসারী তবে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
শার্শা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলাউদ্দিন আলা, সেলিম ও লালন হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা নং–১৩ দায়ের হয়েছে।
পল্লী চিকিৎসক আলআমিন হত্যাকাণ্ড ঘিরে এখন শার্শাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসন কতটা কঠোর হয়—সেদিকেই তাকিয়ে

যশোর প্রতিনিধি 









