Dhaka , বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
News Title :
চৌগাছা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নারীর মৃত্যু, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ রায়পুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোরী, পুলিশের তৎপরতায় স্বস্তি পরিবারে যশোরে নাজমা হোটেলে ভোক্তা অধিকার অভিযান: ১ লাখ টাকা জরিমানা, জব্দ পঁচা ভাত ও অস্বাস্থ্যকর ডিম চৌগাছায় ৩ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ জুস-বিস্কুট-চকলেটের প্রলোভনে নাবালক কে দিয়ে বাসা থেকে ১২ ভরি স্বর্ণ হাতিয়ে নেয়া প্রতা/রক গ্রেফতার পাম্পে হাহাকার, মন্ত্রীদের বয়ানে গোলকধাঁধা সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত প্রবাসী মামুনের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে আহত ইউনিয়ন জামায়াত আমীরের মৃত্যু ছাত্রদলের নতুন কমিটির সভাপতি পদে এগিয়ে কাজী জিয়াউদ্দিন বাসিত
মিঠামইন-এ বেড়িবাঁধের ২০ মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে রোপণ করা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ ধাপে ধাপে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ওই এলাকার নদীভাঙন ঠেকাতে বেড়িবাঁধে গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব গাছ এলাকাবাসীর কাছে ভাঙন প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল।

অভিযুক্ত জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি। অভিযোগ রয়েছে, তার বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া বেড়িবাঁধের ওপর লাগানো গাছগুলো ব্যক্তিগত সুবিধার্থে কেটে ফেলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে যেতে হলে বাঁধের ওপর দিয়েই চলাচল করতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাতায়াতে অসুবিধা হওয়ায় গত ৫ আগস্টের পর থেকে একে একে গাছ কাটা শুরু হয়। সর্বশেষ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে গাছ কেটে গুঁড়ি সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ মন্তব্য করতে সাহস পাচ্ছেন না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, “আমি কেন গাছ কাটব? আমার তো কোনো প্রয়োজন নেই। আন্দাজের ভিত্তিতে কথা বলা হচ্ছে। জায়গা ও গাছগুলো সরকারি নয়। যে যার জায়গা থেকে গাছ কেটে নিয়েছে। বেড়িবাঁধ সরকারি বা অধিগ্রহণকৃত নয়।”

এ বিষয়ে মিঠামইন উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন বিভাগের কর্মকর্তা জুলফিকার জয় জানান, বেড়িবাঁধের গাছগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় ‘খোয়াব’ নামে একটি এনজিও সংস্থা রোপণ করেছিল। উপকারভোগী স্থানীয় দুস্থ নারী ও এলজিইডি বিষয়টি দেখভাল করছে। এটি বন বিভাগের আওতাভুক্ত নয়।

অন্যদিকে, মিঠামইন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে বাঁধ নির্মাণ ও গাছ রোপণ করা হয়। গাছ কাটার খবর পাওয়ার পর স’মিলে অভিযান চালিয়ে কাঠ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

চৌগাছা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নারীর মৃত্যু, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

মিঠামইন-এ বেড়িবাঁধের ২০ মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

Update Time : ০৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে রোপণ করা প্রায় ২০টি মেহগনি গাছ ধাপে ধাপে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ওই এলাকার নদীভাঙন ঠেকাতে বেড়িবাঁধে গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব গাছ এলাকাবাসীর কাছে ভাঙন প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল।

অভিযুক্ত জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি। অভিযোগ রয়েছে, তার বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া বেড়িবাঁধের ওপর লাগানো গাছগুলো ব্যক্তিগত সুবিধার্থে কেটে ফেলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে যেতে হলে বাঁধের ওপর দিয়েই চলাচল করতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাতায়াতে অসুবিধা হওয়ায় গত ৫ আগস্টের পর থেকে একে একে গাছ কাটা শুরু হয়। সর্বশেষ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে গাছ কেটে গুঁড়ি সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে কেউ মন্তব্য করতে সাহস পাচ্ছেন না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, “আমি কেন গাছ কাটব? আমার তো কোনো প্রয়োজন নেই। আন্দাজের ভিত্তিতে কথা বলা হচ্ছে। জায়গা ও গাছগুলো সরকারি নয়। যে যার জায়গা থেকে গাছ কেটে নিয়েছে। বেড়িবাঁধ সরকারি বা অধিগ্রহণকৃত নয়।”

এ বিষয়ে মিঠামইন উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন বিভাগের কর্মকর্তা জুলফিকার জয় জানান, বেড়িবাঁধের গাছগুলো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় ‘খোয়াব’ নামে একটি এনজিও সংস্থা রোপণ করেছিল। উপকারভোগী স্থানীয় দুস্থ নারী ও এলজিইডি বিষয়টি দেখভাল করছে। এটি বন বিভাগের আওতাভুক্ত নয়।

অন্যদিকে, মিঠামইন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে বাঁধ নির্মাণ ও গাছ রোপণ করা হয়। গাছ কাটার খবর পাওয়ার পর স’মিলে অভিযান চালিয়ে কাঠ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।